My Newspaper collection

২১ নম্বর দিননাথ সেন রোডে বিশাল জায়গা জুড়ে তাঁর বাড়ি আর আয়ুর্বেদিক ওষুধের কারখানা। সেখানকার সারিবাদি সালসা, মৃতসঞ্জীবনী সুরা, বিউটি ক্রিম, দশনা সংস্কার, কূটজারিষ্ট, চ্যবনপ্রাশ, মকরধ্বজ, মহাদ্রাক্ষারিষ্ট-এর মতো ওষুধের খ্যাতি দেশ জুড়ে। কারখানার প্রতিটি ইটের সঙ্গে তাঁর আত্মার সম্পর্ক। চরম অশান্ত আবহে বাড়ির সবাইকে কলকাতায় পাঠিয়ে নিজে ভিটে আঁকড়ে রয়েছেন। রয়েছেন সতেরো বছরের পুরনো দুই বিশ্বাসী দারোয়ান সুরজ মিঞা আর রামপাল।

৩ এপ্রিল গভীর রাতে একটা মিলিটারি জিপ এসে থামল বাড়ির সামনে। ৫-৬ জন সশস্ত্র খানসেনা লাফিয়ে নেমে, বাইরের ফটকের তালা ভেঙে শুরু করল গুলিবৃষ্টি। সুরজ মিঞা পাল্টা গুলি ছুড়লেন। অসম লড়াই, তবু কেমন যেন ঘাবড়ে গেল সেনারা। জিপে উঠে চলে গেল। সুরজ অভিজ্ঞ মানুষ। বুঝলেন, আহত বাঘ আবার ফিরবে। হাত জোড় করে পালিয়ে যেতে বললেন বৃদ্ধ মনিবকে। কিন্তু যোগেশবাবু অনড়। ‘‘মরতে হয় তো এ দেশের মাটিতেই মরব।’’

পর দিন সকালেই দ্বিগুণ বাহিনী আর অস্ত্র নিয়ে ফিরে এল খানসেনারা। রাইফেলের মুখে সুরজ, রামপাল ও যোগেশবাবুর বিশ্বস্ত কিছু কর্মচারীকে দাঁড় করিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেল। সেখানে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে-খুঁচিয়ে, তার পর গুলি করে মারা হল যোগেশচন্দ্র ঘোষকে। লুট হল তাঁর বাড়ি, কারখানা। সেই যোগেশচন্দ্র, যিনি সূত্রাপুরে ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আয়ুর্বেদিক ওষুধের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘সাধনা ঔষধালয় (ঢাকা)’।

Happy women’s day

আগ্রহ মোর অধীর অতি –

কোথা সেরা রমণ বীর্যবতী ।

কোষবিমুক্ত কৃপাণলতা –

দারুণ সে, সুন্দর সে

উদ্যত বজ্রের রুদ্ররসে –

নহে সে ভোগীর লোচনলোভা,

ক্ষত্রিয়বাহুর ভীষণ শোভা ।।

হেন উজ্জ্বল কজ্জল আঁখিতারা ।

সন্ধিতা পারে লক্ষ্য নামাঙ্কিত তার বাহু,

নাহি লজ্জা, নাহি শঙ্কা , নাহি নিষ্ঠুরসুন্দর রঙ্গ,

নাহি নীরব ভঙ্গীর সঙ্গীতলীলা ইঙ্গিত ছন্দোমধুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর